মো: সাহেদ এর খোলা চিঠি…

শ্রদ্ধেয় বন্ধু ও সুহৃদ, শ্রদ্ধেয় বন্ধু ও স্বজন,

আজ আমার নিজের সম্পর্কে কিছু সরল সত্য খোলাখুলি জানাচ্ছি আশাকরি সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়বেন।কারণ আপনারা আমাকে যতটা ভালোবাসেন এবং স্নেহ করেন, আমার প্রতি আস্থা রাখেন, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আজকে আমাকে কথাগুলো বলতেই হবে।
আমার নিকট জনরা জানেন যে আমি মো: সাহেদ, পিতা: সিরাজুল করিম এবং মাতা মৃত সাফিয়া করিম। উল্লেখ্য, আমার মা আমৃত্যু সাতক্ষীরা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন। প্রসঙ্গে ফিরি, আমার নামের সাথে কখনোই পিতার নামের শেষাংশটি যুক্ত করি নাই। ওয়ান ইলেভেনের দু:সহ দিনগুলোর কথা সকলেই অবগত আছেন। আমার এক বন্ধু লন্ডন থেকে আমাকে ফোন করেছিলেন, সেই সাধারণ ফোনের সূত্রে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। ওয়ান ইলেভেনের রীতি অনুযায়ী একের পর এক মামলায় আসামী করা হচ্ছিল। আমার নামে মামলা হয়েছিলো ১৮টি। মামলাগুলোর সাথে ব্যাংকের হিসেবের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক না থাকার পরেও আমার ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়। অত:পর ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য যাদের কাছে আমার দেয়া চেক ছিলো তাদের চাপ প্রয়োগ করে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ট্রান্সকম গ্রুপ হতে অনেকেই ছিলো এই তালিকায়। পরবর্তীতে কারাবাস আর এসকল মামলা থেকে আমি অব্যহতি পাই। কিন্তু আর্থিক ও মানসিকভাবে পর্যদুস্ত হয়ে পরি।

আমার বন্ধু এবং স্বজনদের উতসাহে ও নব উদ্যমে পথচলা শুরু করি। আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়িক বন্ধু জনাব ইফতেখার চৌধুরী ও ফারুক হোসেন। আইটি বিষয়ে খুব স্বল্প অভিজ্ঞতা থাকার পরেও আমাকে তারা তাদের আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে পথ চলছিলো, কিন্তু অকস্মাত প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তরা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন।
আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী এবং পরিচালক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। অবশ্য পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে এই অভিযোগ ভুল প্রমাণীত হয়। পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ।
এখানে হাস্যকর বিষয় হলো, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে আমি ঐ প্রতিষ্ঠানের এমডি ছিলাম এবং প্রতিষ্ঠানটি এমএলএম কোম্পানি ছিলো- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পক্ষান্তরে, উপদেষ্টা থাকাবস্থায় নিজের পদাধিকার ও ক্ষমতাবলে ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বা যুক্তদের কোনো ক্ষতি হতে দেইনি।
আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হবার পরে নিজেই আবার ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেই। নিজের মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা আর সততা দিয়ে তিলতিল করে গড়ে তুলি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় শূন্য হতে শুরু করে আমার ঐকান্তিক চেস্টা, নিরলস পরিশ্রম আর স্বজন ও সুহৃদদের ভালোবাসায় ও সাহসে আজ গড়ে উঠেছে দুটি হাসপাতাল, একটি কর্মমূখী এনজিও, একটি পত্রিকা আর কলেজের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমার এই পথচলায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য আমি এনআরবি ফার্মাস ব্যাংকের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে ভুল করিনি, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই আজ সুনামে সততার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।
ব্যবসায়িক পথ চলায় এবার নিজের অজ্ঞাতে একটি ভুল করে ফেলি। হাসপাতালের এমআরআই মেশিন কেনার জন্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক হতে তিন কোটি টাকার ঋণ গ্রহন করি যার মধ্যে তারা ১কোটি পঁচাত্তুর লক্ষ টাকা প্রদান করে। মূলত তারাই ঋনটি নিতে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করেছিলেন, অন্যদিকে হাসপাতালের রোগীদের উন্নত চিকিতসা সেবা প্রদানের জন্য আমিও এমআরআই মেশিন ক্রয়ে উতসাহিত হই। ঋণ গ্রহনের সময়ে ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক তাদের নিয়মের কথা উল্লেখভ করে আমার কাছ থেকে জামানত বাবদ কিছু ব্ল্যাংক চেক এবং সই করা ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প তাদের হেফাজতে জমা রাখে।
একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ততকালীন গর্ভনর আতিউর রহমানের সাথে সাক্ষাত হয়। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তাকে ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহনের কথা জানালে তিনি সতর্ক করে দেন যে এই কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলো কোনো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যাংকিং-এর বৈধ সনদ তাদের নেই। তখন গ্রহন করা ঋণের মধ্যে আমি ১কোটি…. লাখ টাকা পরিশোধ করে ফেলেছি। গর্ভনরের কাছ থেকে তথ্য পাবার পরে আমি অবশিষ্ট ঋণ একত্রে পরিশোধের জন্য আবেদন করলে কো-অপারেটিভ সোসাইটি কোনো ছাড় দেয়ার পরিবর্তে তিন কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে আমার কাছে সাত কোটি টাকা দাবী করে।
এমতাবস্থায় আমি তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি যা বর্তমানে উচ্চ আদলতে বিচারধীন রয়েছে। আদালত আমার কাছ থেকে রাখা চেক এবং স্ট্যাম্প ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ সোসাইটি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চেকের বিপরীতে ৩কোটি টাকার একটি মামলা করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট মামলাটির উপরে স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
ঢাকা কো-অপারেটিভ সোসাইটি এখানেই থেমে থাকেনি, তারা মামলা চলাকালীন সময়ে আমার কাছ থেকে রাখা একটি স্ট্যাম্পে বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র উপস্থাপন করে। ঐ চুক্তিপত্রে আমার নাম একবার উল্লেখ করা হয় লেফট্যান্টে কর্ণেল শাহীদ এবং কর্ণেল শহীদ। নামের এই বিভ্রান্তির কারণে আদলতের সন্দেহ জাগলে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করে। পুলিশ যথাযথ তদন্ত শেষে এই ভাড়া চুক্তিপত্রটিকে ভূয়া হিসেবে প্রতিবেদন দাখিল করে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ সোসাইটি আমাকে ফাসাতে আমাকে লেফট্যান্টে কর্ণেল শাহীদ এবং কর্ণেল শহীদ বানিয়েছিলো যা আদালতে প্রমাণীত হয়েছে।আর একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই আমার বক্তব্য শেষ করবো। পত্রিকার প্রতি ঝোক আমার বহুদিনের। তাই ২০১৪ সালে তথাকথিত সাংবাদিক মাসুদের নিকট হতে ‘অন্যদিগন্ত’ নামে পত্রিকাটি পরিচালনার জন্য গ্রহন করি। পরবর্তীতে সাংবাদিক মাসুদের কথা ও কাজের মিল না থাকায় এবং সংবাদপত্রকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করে আমি পত্রিকাটির দায়িত্ব তাকে ফিরিয়ে দেই। আমার কাছ থেকে কোনো অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে না পেরে সে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা শুরু করে। উপরে উল্লেখিত তথ্যগুলোকে টুইস্ট করে, সত্যের সাথে মিথ্যে মিশিয়ে, তথ্য গোপন করে সে বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে আমার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন বা সংবাদ প্রকাশে আগ্রাসী হয়ে ওঠে। আমার একটি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা থাকায়, আমার সাথে একত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতায় সংবাদ মাধ্যমের সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মীরা জানেন যে এসকল তথ্য সত্য নয় এবং তারা তথাকথিত সাংবাদিক মাসুদকে পাত্তা না দিলে তিনি আরও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে। এক্ষত্রে সে ও ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড একত্রে সিন্ডিকেট তৈরী করে আমাকে হেয় করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মিডিয়া কর্মীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আমাকে বারবার হেয়তার হাত থেকে রক্ষা করেছে, আমাকে শত্রু-মিত্র চিনিয়ে দিয়েছে, আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে একজন মানুষ তার স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কতটা নিচে নামতে পারে।বিগত কিছুদিন ধরে একটি অজনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের তথাকথিত সাহসী (!) সাংবাদিক উপরের তথ্যগুলোকে আগের মত টুইস্ট করে আমাকে ব্ল্যাক মেইলের চেষ্টা করে আসছেন। আপনাদের একাধিক পোস্টে তা জানিয়েছি। মুখোশ খোলায় উৎসাহী সেই সাহসী সাংবাদিক এবং তার সাথে যুক্তরা আমার কাছে বিশাল অংকের অর্থ দাবী করেছেন। যেহেতু আমার উপার্জিত প্রতিটি পয়সা হালাল এবং শ্রমের সেহেতু একটি পয়সাও আমি তাদের দিবোনা। তারা টুইস্ট করে, সত্যের সাথে মিথ্যে মিশিয়ে ব্ল্যাক মেইল করার যতই চেষ্টা করুক না কেনো।

প্রিয় বন্ধূ ও স্বজন, উপরের প্রতিটি তথ্য সরল সত্য। তারপরেও যদি আপনাদের কোনো প্রশ্ন জাগে তবে করতে পারেন, আমি তার উত্তর দিতে প্রস্তুত। জানবেন, সকল প্রতিকূলতা শেষে আমি আপানাদের স্নেহের, শ্রদ্ধার আর ভালোবাসার সেই সাহেদই আছি।

নিরন্তর শুভ কামনায়,

মো: সাহেদ

সম্পাদক, দৈনিক নতুন কাগজ।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*