বাচ্চুর শেষ কনসার্ট মঞ্চে শেষ গানটি ছিল ‘এক আকাশের তারা তুই’

সঙ্গীত জগতের জনপ্রিয় তারকা আইয়ুব বাচ্চু আর নেই। রুপালি গিটার ফেলে আজ সকালে তিনি চলে গেছেন সেই অচেনা শহরে। গত মঙ্গলবার রাতে রংপুর জেলা স্কুলের মাঠে কনসার্ট করেন তিনি। সাংস্কৃতিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কনসার্টটির নাম ‘শেকড়ের সন্ধানে মেগা কনসার্ট’। এর মিডিয়া পার্টনার ছিল গানবাংলা। এটাই ছিল এই কিংবদন্তি শিল্পীর শেষ কনসার্ট। সেই সময় অন্য শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর মুহূর্তের কিছু ছবি এনটিভি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।Image may contain: 1 person, on stage and guitar

আজ সকালেই ‘ঘুমন্ত শহরে’ চলে গেছেন আইয়ুব বাচ্চু। এই তো গত মঙ্গলবারই রংপুর জেলা স্কুলের মাঠে গান গেয়ে দর্শকদের মন জয় করেন তিনি। ভক্তদের সামনে এটিই ছিল কিংবদন্তি শিল্পীর শেষ কনসার্ট।

মঞ্ঝে আইয়ুব বাচ্চু সর্বশেষ ‘এক আকাশে তারা তুই’  গানটি গেয়ে বিদায় নেন ভক্তদের কাছ থেকে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কনসার্টটির নাম ছিল ‘শেকড়ের সন্ধানে মেগা কনসার্ট’। এর মিডিয়া পার্টনার ছিল গানবাংলা। সেই কনসার্টে আইয়ুব বাচ্চুকে ক্লান্ত লাগছিল বলে জানান এ সময়ের সংগীতশিল্পী ঐশী। তিনিও কনসার্টে গান পরিবেশন করেন।

এনটিভি অনলাইনকে ঐশী বলেন, ‘বাচ্চু ভাইয়ার সঙ্গে এই কনসার্টেই শেষবারের মতো কথা হয় আমার। তাঁকে খুব ক্লান্ত লাগছিল দেখতে। বসকে আমি সেদিন সাহস করে বলেছিলাম, আপনার গান গাওয়ার চেষ্টা করছি। কখনো শুনে ফেললে আমাকে বকা দিয়েন না। এরপর তিনি বলেছিলেন,  গাইবি তুই আমার গান, গাইবি, গাইবি তুই।’

ঐশী আরো বলেন, ‘কাল দুপুরে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। আজ বস নেই। এটা মানতেই পারছি না। খুব কষ্ট লাগছে।’

আইয়ুব বাচ্চু আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। স্কয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মির্জা নাজিমুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হার্ট অ্যাটাক হয় আইয়ুব বাচ্চুর। বাসাতেই সেটা হয়। ৯টা ৫৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।’

ডা. মির্জা আরো বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু বহুদিন থেকে হৃদরোগে ভুগছিলেন। এই রোগটির নাম কার্ডিও-মাইওপ্যাথি।’

হৃদরোগের কারণে আইয়ুব বাচ্চু গত কয়েক বছর বারবারই হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ২০০৯ সালে তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়। দুই সপ্তাহ আগে শেষ তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।

Image may contain: 2 people, people standing

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। ১৯৭৮ সালে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে। এরপর ১০ বছর সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। আশির দশকে একাধিক একক অ্যালবাম বেরুলেও নব্বইয়ের দশকে ‘ডাবল অ্যালবাম’ দিয়ে এলআরবির যাত্রা শুরু হয়। তখন ব্যান্ডটির নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে ব্যান্ডের নাম পাল্টে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’,‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। সঙ্গীতজগতে তিনি এবি নামে পরিচিত হলেও তাঁর ডাকনাম ছিল রবিন। এ নামেও তিনি নব্বইয়ের দশকে একক অ্যালবাম বের করেন।

আইয়ুব বাচ্চু মারা গেছেন সেটা ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। তার মৃত্যুতে স্কয়ার হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. মো. নাজিমউদ্দিন ভাষ্যমতে – আইয়ুব বাচ্চুর হার্ট ৩০% কার্যক্ষমতা ছিলো। তিনি নাকি গত কিছুদিন আগেও চেক আপ করিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে তার হার্টে নাকি রিং পড়ানো হয়েছিলো।তার মানে ২০০৯ থেকে ২০১৮ এই ৯ বছর ধরে তিনি শারিরিক ভাবে অনেক অসুস্থ ছিলেন। আর হার্টের বাইপাস করা রোগীরা অবশ্যই জানেন এটা অনেকটা মৃত্যুর কাছাকাছি থেকে ফিরে আসার মত (যদিও মৃত্যু তার নির্ধারিত সময়েই হবে, এক মূহুর্তও বিলম্ব হবে না)।

Image may contain: 1 person, closeup

আইয়ুব বাচ্চুকে কাল শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা বাদ জুম্মা জানাজা

জাতীয় ঈদগাহ মাঠে বাদ জুমা জানাজা হবে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর। এর আগে সর্ব সাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে শহীদ মিনারের পাদদেশে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।

এনটিভি অনলাইনকে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘আসলে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের তেমন কেউ না থাকায় সিদ্ধান্ত বদল করতে হচ্ছে বারবার। কথা ছিল বাদ জুমা জানাজা হবে। সেই হিসেবে লাশ ১২টায় হিম ঘর থেকে বের করা হবে। কিন্তু আমরা সবাই বসে আবারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামীকাল সকাল ১০ থেকে ১২টা পর্যন্ত শহিদ মিনারে লাশ রাখা হবে। সেখানে সর্বসাধারণ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবে।’

নাসির উদ্দিন আরো বলেন, ‘আগামীকাল রাতে লাশ স্কয়ারের হিম ঘরে রাখা হবে নাকি চট্টগ্রাম নেওয়া হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। সেটা আমরা আজ বিকেলে জানাতে পারব।’

আইয়ুব বাচ্চু আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। স্কয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মির্জা নাজিমুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হার্ট অ্যাটাক হয় আইয়ুব বাচ্চুর। বাসাতেই সেটা হয়। ৯টা ৫৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।’

ডা. মির্জা আরো বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু বহুদিন থেকে হৃদরোগে ভুগছিলেন। এই রোগটির নাম কার্ডিও-মাইওপ্যাথি।’

হৃদরোগের কারণে আইয়ুব বাচ্চু গত কয়েক বছর বারবারই হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ২০০৯ সালে তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়। দুই সপ্তাহ আগে শেষ তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। ১৯৭৮ সালে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে। এরপর ১০ বছর সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। আশির দশকে একাধিক একক অ্যালবাম বেরুলেও নব্বইয়ের দশকে ‘ডাবল অ্যালবাম’ দিয়ে এলআরবির যাত্রা শুরু হয়। তখন ব্যান্ডটির নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে ব্যান্ডের নাম পাল্টে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। সঙ্গীতজগতে তিনি এবি নামে পরিচিত হলেও তাঁর ডাকনাম ছিল রবিন। এ নামেও তিনি নব্বইয়ের দশকে একক অ্যালবাম বের করেন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*