গণতন্ত্র, তুই আবার কবে আসবি?

default

অনলাইন ডেস্ক ঃ অনেক সংগ্রামের পর তোকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলাম৷ কয়েকটা বছর আমাদের সঙ্গে ভালোই ছিলি৷ কিন্তু তারপর একসময় তোকে আর পছন্দ হচ্ছিল না আওয়ামী লীগ নামে আমাদেরই এক বন্ধুর৷

তাই তো কীভাবে তোর ক্ষতি করা যায় সেই চেষ্টাই চলেছে গত কয়েক বছর ধরে৷ তোর বিভিন্ন অঙ্গে একের পর এক আঘাত করা হয়েছে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, স্বাধীন হয়ে কাজ করার কথা যে নির্বাচন কমিশনের তার উপরও নজর পড়েছিল আমাদের তথাকথিত ঐ বন্ধুর৷ আর যে অঙ্গের মাধ্যমে তুই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতিস, সেই গণমাধ্যমের দখলও একসময় নিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ৷ 

এত কিছুর পরও অবশ্য আমরা ভেবেছিলাম যে, আমাদের সবার বন্ধু সেনাবাহিনী তোর সঙ্গে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করবে৷ কিন্তু তা-ও হলো না৷ তাঁরাও আমাদের ঐ তথাকথিত বন্ধুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফেললো৷

ফলে নির্বাচনের বছর হওয়ায় ২০১৮ সালের শুরুতে আমরা যে আশা করেছিলাম, তোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা আবারও মজবুত হবে, তা আর হলো না৷ বরং তোকে চলেই যেতে হলো৷

অবশ্য এর জন্য শুধু এক বন্ধুর ঘাড়ে পুরো দোষ চাপিয়ে লাভ নেই৷ আমরা, মানে জনগণ, আর আমাদের আরেক বন্ধু বিএনপিও এর জন্য অনেকখানি দায়ী৷ কারণ, আওয়ামী লীগ যখন তোকে একের পর এক আঘাত করছিল, তখন আমরা আর বিএনপি, দুজনই চুপ করে ছিলাম৷ অথচ আমরা যদি তখন শক্ত প্রতিবাদ করতে পারতাম, তাহলে হয়ত আজ তোকে হারাতে হতো না৷

যাক, নতুন বছর এসেছে৷ এই বছরে আমরা আবার তোকে ফিরে পেতে চাই৷ আওয়ামী লীগ যদি সেটা হতে দিতে না চায়, তাহলে আমাদের আর বিএনপিকে চেষ্টা করে যেতে হবে৷ আওয়ামী লীগকে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে যে, বন্ধু হিসেবে আমাদের তোকে দরকার আছে৷ বিশ্বের দরবারে দেশের ‘স্ট্যাটাস’ বাড়াতে তোকে প্রয়োজন৷ 

তবে আওয়ামী লীগ হয়ত তাদের কথাকেই গুরুত্ব দেবে, যারা শক্তিশালী৷ বিএনপি এখন সেই অবস্থায় নেই৷ ফলে বিএনপির প্রথম কাজ হবে, তার শরীরটা ঠিক করা৷ শুরু হতে হবে মাথা থেকে৷ মস্তিষ্ককে সচল হতে হবে, অলস হলে চলবে না, ভয় পেলে হবে না৷ মাথাকে বুঝতে হবে, শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো তার কাছ থেকে সংকেত না পেলে, সাহস না পেলে নড়তে-চড়তে পারবে না৷

দেখা যাক, নতুন বছরে তোকে ফিরিয়ে আনতে আমরা কী করতে পারি৷ আমাদের জন্য দোয়া করিস৷

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*