সর্বশেষ সংবাদ

বর্তমান বিশ্বে মুসলিম শিক্ষা নিয়ে চলছে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র

অনলাইন ডেস্ক ঃ বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ মুসলিম! মানে মুসলমানদের জনসংখ্যা ১৫৭ কোটিরও উপরে। এবং মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৮৪%, যা ২০৫০ সালে মুসলিম জনসংখ্যা হবে ২০৩ কোটি ৪০ লাখ! যা খ্রিস্টান জনসংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে এবং ধর্মীয় জনসংখ্যার দিক দিয়ে প্রথম স্থান দখল করবে মুসলিম সম্প্রদায়।

এবার ভাবুন জনসংখ্যা বৃদ্ধি মানে, জনবল বৃদ্ধি আর জনবল বৃদ্ধি মানে “দশের লাঠি একের বোঝা”। এতো দিনের নির্যাতনের হিসেব আদায় করা। ঠিক এখান থেকেই শুরু আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নীল নকশা।।

🔹 পৃথিবীতে মোট মুসলিম রাষ্ট্র -৬৫ টি এবং ওআইসি ভুক্ত মুসলিম রাষ্ট্র -৫৭ টি। মুসলিম দেশগুলোতে সর্বমোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা -৫০০ (পাঁচশত) টি। কিন্তু বিশ্বে যে টপ রেঙ্কের পাঁচশতটি ইউনিভার্সিটি আছে, সেই লিস্টে ইসলামিক বা মুসলিম দেশের কোন ইউনিভার্সিটির নাম নেই। বিশ্বে মুসলিম শিক্ষার গড় হার -৪০% ভাবা যায়..?
অথচ মুসলিম জনসংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। শুধু মাদ্রাসা নয়, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে মুসলিম দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কারণ, যদি জনসংখ্যার দিক দিয়েও মুসলিম এগিয়ে যায়, শিক্ষার দিক দিয়েও এগিয়ে যায়, তাহলে পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাওয়া রাজনৈতিক স্বৈরাচারেরা আর নিজ স্বার্থ হাসিল করতে পারবেনা। কারণ, জাতি যখন শিক্ষিত হবে দেশও আরো উন্নত হবে ইকোনমিক শক্তিশালী হবে, রাজনৈতিক শক্তিশালী হবে এমন কি বিশ্ব রাজত্ব করবে এবং বর্তমান সিরিয়া প্রধান মুসলিম রাষ্ট্রে পরিনত হবে।

🔹 পৃথিবীর শিক্ষার দিক দিয়ে কতটা পিছিয়ে আছে একটু চোখ ঘুরাই — আগেই বলেছি মুসলিম দেশগুলিতে ইউনিভার্সিটি ৫০০ টি এবং শিক্ষার গড় হার ৪০%।

* আমেরিকা বিশ্ববিদ্যালয় – ৫৭৫৮ টি। শিক্ষার গড় হার ৯৫%।

* ইন্ডিয়া কলেজ ও ইউনিভার্সিটি -৮৪০৫ টি। শিক্ষার গড় হার ৭৮%।

# বিশ্বে খ্রিস্টান সমাজে শিক্ষার হার ৯০%।

# বিশ্বে মুসলিম সমাজে শিক্ষার হার ৪০%।

# বিশ্বের ১৫ টি খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শিক্ষার হার ১০০%।

# বিশ্বে অধিকাংশ দেশে মুসলিম শিক্ষার হার ৫%।

# বিশ্বের খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহে প্রাথমিকস্কুল শিক্ষা সমাপ্ত করে ৯৮% ছাত্র-ছাত্রী।

# বিশ্বে ৫৭ মুসলিম দেশের মাত্র ২৬ টি দেশে প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা সমাপ্ত করে, তাও আবার অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রী স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।

# শতকরা ৪০% খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ছাত্র ছাত্রীরা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করে।

# আর মুসলিম দেশে শতকরা ৩% ছাত্র ছাত্রী ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করে।

# অধিকাংশ মুসলিম দেশে এক মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে বিজ্ঞানীর সংখ্যা ২৩০ জন।

# পশ্চিমা দেশগুলোর খ্রিস্টানী এক মিলিয়নে জনসংখ্যার মধ্যে বিজ্ঞানী হয় ৫০০০ জন।

# পশ্চিমা বিশ্বে এক মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে প্রযুক্তিবিদ ও টেকনিশিয়ান সংখ্যায় হয় ১০০০।

# আরব সম্মিলিত দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিবিদ ও টেকনিশিয়ান হয় গড়ে ৫০ জন।

🔹 দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমানে মুসলিম নিজেরাই নিজের শত্রু মনে করে আর অন্যরা এই শত্রুতার আগুনকে হাওয়া দিয়ে নিজের ফায়দা হাসিল করছে।

আর এক দল মৌলবী ফতুয়া নিয়ে ব্যস্ত মানে প্রতিযোগিতা চলছে কে কার থেকে বেশি ফতুয়া জানে।
আর আমজনতা এবং মৌলবীর মাঝখানের জন টিপ নিয়ে ব্যস্ত মানে কে কপালে টিপ পড়লো কি পড়লো না সে বিষয় লেকচার দেয়ার জন্য অন্যদের কপালে সিসি ক্যামেরা সেটিং করে রেখেছে। কিন্তু দুনিয়া কি থেকে কি হচ্ছে সে হুস নেই।

🔹 তবে আমি মনে করি মুসলিম তরুণ তরুনীদের সেই সব প্রতিভা আছে যেই প্রতিভা গোটা বিশ্বকে বদলে দিতে পারে, মুসলিম ছাত্র ছাত্রীরাও পারে নতুনত্ব আবিষ্কার করতে। তা শুধু সময়ের ব্যপার মাত্র। 
আর প্রয়োজন সঠিক উদ্দোগ এবং সঙ্গবদ্ধ হওয়ার।
বাকি আল্লাহ ভরসা জয় ইনশাআল্লাহ হবেই।।।

{{ এই পোষ্ট কোন ব্যক্তিবিশেষ বা কোন ধর্মের অনুসারীর বা কোন দেশের বিরুদ্ধে নয়। এই পোষ্ট শুধুমাত্র নিজ প্রয়োজনে অন্যদের অধিকারে এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার উপরে হামলা করা স্বৈরাচারদের বিরুদ্ধে }}

লেখকঃ প্রিয়া ইসলাম ফাতিহা, ভারতীয় লেখক,গবেষক।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*